দ্যা সায়েন্স অফ গেটিং রিচ

ওয়ালিস ডি. ওয়াটলেসের লেখা The Science of Getting Rich বইটি হলো মূলত তত্ত্বীয় আলোচনা নয়, বরং ব্যবহারিক দিকনির্দেশনাসম্পন্ন একটি ম্যানুয়াল। এটি এমন পুরুষ ও মহিলাদের জন্য লেখা, যাদের সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হলো অর্থ, যারা প্রথমে ধনী হতে চান এবং পরে দার্শনিক আলোচনা করতে ইচ্ছুক। এই বইটির প্রত্যাশা হলো যে পাঠক বিজ্ঞানের এই মৌলিক বিষয়গুলি বিশ্বাস করে গ্রহণ করবেন এবং কোনো ভয় বা দ্বিধা ছাড়াই সেগুলির ওপর ভিত্তি করে কাজ করবেন। লেখক দাবি করেন যে এটি একটি নিখুঁত বিজ্ঞান (exact science), এবং এটির পদ্ধতি অনুসরণ করলে ব্যর্থতা অসম্ভব।

এই গ্রন্থের মূল ভিত্তি হলো বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অদ্বৈতবাদী তত্ত্ব (monistic theory)—যে এক বস্তুই (One Substance) দৃশ্যমান জগতের বহু উপাদানে নিজেকে প্রকাশ করে। এই বিজ্ঞানের মূল উদ্দেশ্য হলো ধনী হওয়া, কারণ ধনী না হলে কেউ তার প্রতিভা বা আত্মার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে না এবং একটি সত্যই সফল বা সম্পূর্ণ জীবন যাপন করা সম্ভব হয় না। মানুষের অগ্রগতির ভিত্তি অবশ্যই হতে হবে ধনী হওয়ার বিজ্ঞান। ধনী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আসলে একটি সমৃদ্ধ, পূর্ণ এবং আরও প্রচুর জীবনের আকাঙ্ক্ষা, যা প্রশংসনীয়।


Table of Contents

অধ্যায়ভিত্তিক সারসংক্ষেপ (Chapter-wise Summary)

ওয়ালিস ডি. ওয়াটেলসের লেখা The Science of Getting Rich গ্রন্থটির একটি বিশদ অধ্যায়ভিত্তিক সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো

অধ্যায় I: ধনী হওয়ার অধিকার (The Right to be Rich)

ধনী হওয়া মানুষের একটি জন্মগত অধিকার। পূর্ণ মানসিক, আধ্যাত্মিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, তা মুক্তভাবে ব্যবহার করার অধিকারই হলো এই অধিকার। লেখক অলঙ্কারিক অর্থে ধন-সম্পদ নিয়ে কথা বলেন না; বরং তিনি বলেন যে জীবনে যা কিছু প্রয়োজন, তা সবকিছু যার আছে, সেই ব্যক্তিই ধনী। প্রকৃতি বা ঈশ্বরের উদ্দেশ্য হলো জীবনের অগ্রগতি ও বিকাশ; এবং মানুষের উচিত এমন সবকিছু রাখা যা জীবনের শক্তি, সৌন্দর্য এবং সমৃদ্ধিতে অবদান রাখে। আমাদের জীবন তিনটি উদ্দেশ্যের জন্য—দেহ, মন ও আত্মা—এবং এদের কোনো একটিকেও পূর্ণ জীবন ও প্রকাশ থেকে বঞ্চিত করা ঠিক নয়। ভালোবাসা প্রকাশের জন্য এবং প্রিয়জনদের উপকার করার জন্য অর্থের প্রয়োজন, তাই ধনী হওয়া মানুষের জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ।

অধ্যায় II: ধনী হওয়ার বিজ্ঞান আছে (There is a Science of Getting Rich)

ধনী হওয়ার একটি বিজ্ঞান আছে, যা পাটিগণিত বা বীজগণিতের মতো একটি নিখুঁত বিজ্ঞান। যারা একটি “নির্দিষ্ট উপায়ে” (Certain Way) কাজ করে, তারা ধনী হয়, অন্যরা যতই কঠোর পরিশ্রম করুক না কেন, তারা দরিদ্র থেকে যায়। এই নির্দিষ্ট উপায়ে কাজ করার ক্ষমতা প্রতিভা বা পরিবেশের উপর নির্ভর করে না। এমনকি যারা খুব দরিদ্র বা ঋণগ্রস্ত, তারাও এই নির্দিষ্ট উপায়ে কাজ শুরু করলে ধনী হওয়া শুরু করবে, কারণ মূলধন অর্জন করা এই প্রক্রিয়ারই অংশ।

অধ্যায় III: সুযোগ কি একচেটিয়া? (Is Opportunity Monopolized)

সুযোগ কারো একচেটিয়া নয়; সম্পদ বা সুযোগকে অন্যেরা আটকে রাখেনি। সুযোগের জোয়ার সর্বদা সমাজের প্রয়োজন এবং বিবর্তনের পর্যায় অনুসারে বিভিন্ন দিকে প্রবাহিত হয়। বর্তমানে, আমেরিকায় সুযোগ কৃষি এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের দিকে। যদিও দৃশ্যমান সম্পদের সরবরাহ সীমাবদ্ধ বলে মনে হতে পারে, অদৃশ্য সরবরাহ (Formless Stuff বা রূপহীন পদার্থ) বাস্তবে সীমাহীন। এই অদৃশ্য, মূল পদার্থটি (Original Substance) বুদ্ধিমান (intelligent) এবং জীবন্ত। এটি সর্বদা আরও জীবনের দিকে চালিত হয়। পর্যাপ্ত সম্পদের অভাবের কারণে কেউ দরিদ্র হয় না; বরং ব্যক্তিরা দরিদ্র হয় কারণ তারা ধনী হওয়ার নির্দিষ্ট উপায় অনুসরণ করে না।

অধ্যায় IV: ধনী হওয়ার বিজ্ঞানের প্রথম নীতি (The First Principle in the Science of Getting Rich)

রূপহীন পদার্থ (Formless Substance) থেকে দৃশ্যমান সম্পদ তৈরি করার একমাত্র শক্তি হলো চিন্তা (Thought)। এই চিন্তাশীল পদার্থটি তার ধারণার রূপ নেয়। মানুষও চিন্তার উৎস হতে পারে এবং তার চিন্তা রূপহীন চিন্তাশীল পদার্থের (Original Thinking Substance) উপর চাপিয়ে নতুন বস্তু তৈরি করতে পারে।

ধনী হওয়ার প্রথম ধাপ হলো একটি নির্দিষ্ট উপায়ে চিন্তা করা। এর অর্থ হলো বাহ্যিক অবস্থার (appearances) বিপরীতে গিয়ে সত্যকে চিন্তা করা। দারিদ্র্যের উপস্থিতি সত্ত্বেও প্রাচুর্যের কথা চিন্তা করতে হয়, যা অর্জন করতে কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়। একজনকে অবশ্যই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হবে যে একটি চিন্তাশীল পদার্থ আছে, যা চিন্তার মাধ্যমে বস্তুতে পরিণত হয়।

অধ্যায় V: জীবনের বৃদ্ধি (Increasing Life)

সচেতনভাবে জীবন্ত পদার্থ (Consciously Living Substance) সর্বদা জীবনের বৃদ্ধি চায়। জীবনের বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য জিনিসপত্র ব্যবহার করা প্রয়োজন, তাই আমাদের ধনী হতে হবে। ঈশ্বরের ইচ্ছা যে আপনি ধনী হন, কারণ আপনি যখন প্রচুর জিনিস ব্যবহার করতে পারেন, তখন তিনি আপনার মাধ্যমে নিজেকে আরও ভালোভাবে প্রকাশ করতে পারেন। আপনার উদ্দেশ্য অবশ্যই সর্বজনীন উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে—কেবল আনন্দের জন্য নয়, বরং পূর্ণ জীবনের জন্য। আপনাকে অবশ্যই প্রতিযোগিতামূলক চিন্তা ত্যাগ করতে হবে। আপনার সম্পদ সৃষ্টি করতে হবে, অন্য কারো থেকে তা ছিনিয়ে নেওয়া বা চালাকি করে অর্জন করা যাবে না। সর্বদা রূপহীন পদার্থের সীমাহীন সম্পদের দিকে তাকান, দৃশ্যমান সরবরাহের দিকে নয়।

অধ্যায় VI: আপনার কাছে ধনসম্পদ কীভাবে আসে (How Riches Come to You)

আপনাকে এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে আপনি নগদ মূল্যের (cash value) চেয়ে ব্যবহারিক মূল্য (use value) অন্যকে বেশি দেন। এভাবে আপনি প্রতিটি ব্যবসায়িক লেনদেনের মাধ্যমে বিশ্বের জীবনে যোগ করছেন। আপনার সম্পদ বায়ুমণ্ডল থেকে হঠাৎ করে তৈরি হবে না; এটি সর্বোচ্চ বুদ্ধিমত্তার (Supreme Intelligence) শক্তি দ্বারা মানুষের মনের উপর কাজ করার মাধ্যমে আপনার কাছে আসবে, যা প্রতিষ্ঠিত বাণিজ্য ও লেনদেনের চ্যানেলের মাধ্যমে আসবে। আপনার যা প্রয়োজন, তা পাওয়ার জন্য দ্বিধা করবেন না, কারণ অনন্ত (Infinite) আপনার মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করতে চায়।

অধ্যায় VII: কৃতজ্ঞতা (Gratitude)

রূপহীন পদার্থের সাথে সুরেলা সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য গভীর ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা (gratitude) অত্যাবশ্যক। কৃতজ্ঞতা আমাদের মনকে সেই উৎসের সাথে ঘনিষ্ঠ সংযোগে রাখে যেখান থেকে আশীর্বাদ আসে। কৃতজ্ঞতা মনকে সৃষ্টিশীল চিন্তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখে এবং সরবরাহ সীমিত—এই ভুল চিন্তায় পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। কৃতজ্ঞতার আইন (Law of Gratitude) হলো কর্ম এবং প্রতিক্রিয়ার প্রাকৃতিক নীতি। কৃতজ্ঞ মন সর্বদা সেরাটার উপর স্থির থাকে, তাই এটি সেরাটা গ্রহণ করবে এবং বিশ্বাস বা Faith-এর জন্ম দেয়।

অধ্যায় VIII: একটি নির্দিষ্ট উপায়ে চিন্তা করা (Thinking in the Certain Way)

আপনাকে অবশ্যই একটি স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট মানসিক চিত্র (clear and definite mental picture) তৈরি করতে হবে যে আপনি কী চান। আপনার এই চিত্রটি সর্বদা মনে রাখতে হবে। স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির পিছনে এটিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার উদ্দেশ্য (purpose) এবং এটি ইতিমধ্যেই আপনার—এই বিষয়ে একটি অবিচল বিশ্বাস (unwavering faith) থাকতে হবে। আপনার অবশ্যই মানসিক রাজ্যে মালিকানার মনোভাব (Mental Attitude of Ownership) নিতে হবে এবং বাস্তবে এটি পাওয়ার আগেই কৃতজ্ঞ হতে হবে।

অধ্যায় IX: ইচ্ছাশক্তির ব্যবহার (How to Use the Will)

ধনী হওয়ার জন্য আপনার ইচ্ছাশক্তিকে নিজের বাইরে অন্য কোনো কিছুর উপর প্রয়োগ করার চেষ্টা করবেন না (যেমন অন্য মানুষ বা বস্তুর উপর)। আপনার ইচ্ছাশক্তির বৈধ ব্যবহার হলো নিজেকে সেই নির্দিষ্ট উপায়ে চিন্তা করতে ও কাজ করতে বাধ্য করা। সন্দেহ বা অবিশ্বাস ফর্মলেস সাবস্ট্যান্সে একটি নেতিবাচক ছাপ তৈরি করে, যা আপনার দিকে আসা জিনিসগুলির প্রবাহকে থামিয়ে দেয়। আপনাকে অবশ্যই আপনার মনোযোগ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং দারিদ্র্য, রোগ বা অকল্যাণের চিন্তা বা আলোচনা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। দরিদ্রদের সাহায্য করার সেরা উপায় হলো নিজে ধনী হয়ে এই বিজ্ঞানের প্রমাণ দেওয়া।

অধ্যায় X: ইচ্ছাশক্তির আরও ব্যবহার (Further Use of the Will)

অতীতে আর্থিক অসুবিধা বা দারিদ্র্যের কথা ভাবা বা আলোচনা করা থেকে বিরত থাকুন। বিশ্বকে অগ্রগতির দিকে যাচ্ছে—এই সত্যটি দেখতে শিখুন। ধনী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা সবচেয়ে মহৎ উদ্দেশ্য, কারণ এটি স্বাস্থ্য, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মহত্ত্ব এবং পারিবারিক সুখ সহ সবকিছুকে সম্ভব করে তোলে। সন্দেহ এড়াতে, ধনী না হওয়া পর্যন্ত শুধু এই বইটিই মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং আশাবাদী মন্তব্য ছাড়া আর কিছু পড়বেন না। মনকে অস্থির করতে পারে এমন গুপ্তবিদ্যা (occult) বা বিপরীত তত্ত্বের আলোচনা এড়িয়ে চলুন।

অধ্যায় XI: একটি নির্দিষ্ট উপায়ে কাজ করা (Acting in the Certain Way)

চিন্তা সৃষ্টিশীল শক্তি হলেও, এটিকে অবশ্যই ব্যক্তিগত কর্মের (personal action) দ্বারা পরিপূরক করতে হবে। চিন্তা আপনার দিকে সম্পদ নিয়ে আসে, কিন্তু কাজ আপনাকে সেগুলি গ্রহণ করতে দেয়। আপনার কর্ম অবশ্যই এখনই শুরু করতে হবে—আপনার বর্তমান ব্যবসা বা পরিবেশেই। আপনার বর্তমান কাজকে একটি ভালো কাজ বা পরিবেশের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করুন। আপনার দৃষ্টিভঙ্গি (vision) এবং বিশ্বাস (faith) সৃজনশীল শক্তিকে আপনার দিকে চালিত করবে, আর আপনার কর্ম আপনাকে সেদিকে নিয়ে যাবে।

অধ্যায় XII: দক্ষ কর্ম (Efficient Action)

আপনি তখনই উন্নতি করতে পারেন যখন আপনি আপনার বর্তমান স্থানের চেয়ে বড় হন; এবং আপনার বর্তমান কাজের কোনো অংশ অসম্পূর্ণ রেখে আপনি বড় হতে পারবেন না। ধনী হওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই প্রতিটি দিনকে সফল করতে হবে। এখানে কাজের পরিমাণের চেয়ে প্রতিটি পৃথক কর্মের দক্ষতা (EFFICIENCY) বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি কাজকে সফল এবং শক্তিশালী করা যেতে পারে, যখন আপনি কাজ করার সময় আপনার দৃষ্টিভঙ্গি, বিশ্বাস এবং উদ্দেশ্যকে তার মধ্যে স্থাপন করেন। সফল কর্মের ফল ক্রমবর্ধমান হয়।

অধ্যায় XIII: সঠিক ব্যবসায় আসা (Getting into the Right Business)

আপনার যদি কোনো নির্দিষ্ট কাজে শক্তিশালী প্রতিভা থাকে, তবে সেই কাজে সফল হওয়া সহজ। তবে আপনি আপনার পছন্দের (want to do) যেকোনো কাজে সফল হতে পারেন, কারণ সেই কাজটি করার আকাঙ্ক্ষা প্রমাণ করে যে আপনার মধ্যে তা করার শক্তি আছে। আপনি যা করতে চান না, তা কেবল একটি মাধ্যম হিসাবে করুন, যতক্ষণ না আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত কাজে যেতে পারছেন। সৃজনশীল স্তরে কোনো তাড়াহুড়ো নেই; যখন সন্দেহ হয়, তখন অপেক্ষা করুন, দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চিন্তা করুন এবং কৃতজ্ঞতা বাড়ান।

অধ্যায় XIV: বৃদ্ধির ধারণা (The Impression of Increase)

অন্যদের সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে, আপনার সমস্ত প্রচেষ্টার মূল চিন্তা হতে হবে বৃদ্ধির ধারণা (impression of increase) তাদের মনে পৌঁছে দেওয়া। কারণ সকল মানুষ বৃদ্ধি চায়—আরও জীবন, আরও জ্ঞান, আরও সৌন্দর্য। আপনি একটি সৃষ্টিকর্তা কেন্দ্র (creative center), যেখান থেকে সকলের জন্য বৃদ্ধি ছড়িয়ে পড়ে। আপনার প্রতিটি কাজ, স্বর এবং চাহনি যেন এই শান্ত আশ্বাস প্রকাশ করে যে আপনি ধনী হচ্ছেন এবং যারা আপনার সাথে কাজ করে, তারাও সুবিধা পাচ্ছে। ক্ষমতার লালসা (lust for power) থেকে সাবধান; অন্যদের উপর কর্তৃত্ব করার চিন্তা প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা, সৃজনশীল নয়। সৃজনশীল কাজের নীতি হলো: “আমি নিজের জন্য যা চাই, তা যেন আমি সবার জন্যই চাই”।

অধ্যায় XV: উন্নতিশীল মানুষ (The Advancing Man)

এই পদ্ধতি চিকিৎসক, শিক্ষক, যাজক বা মজুরি উপার্জনকারী—সকলের ক্ষেত্রেই সত্য। একজন উন্নতিশীল মানুষ, যিনি নির্দিষ্ট উপায়ে কাজ করেন, তিনি অপরিসীমভাবে সফল হবেন। মজুরি উপার্জনকারীরা তাদের বর্তমান কাজের প্রতিটি অংশ সফলভাবে সম্পন্ন করার সময় তাদের বিশ্বাস ও উদ্দেশ্যকে কাজে লাগান। আপনার নিয়োগকর্তাকে খুশি করার জন্য কাজ করবেন না, বরং নিজেকে উন্নত করার ধারণায় কাজ করুন। আপনার আশেপাশে যারা আপনার সংস্পর্শে আসবে, তারা যেন আপনার থেকে অগ্রগতির অনুভূতি পায়।

অধ্যায় XVI: কিছু সতর্কতা ও চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ (Some Cautions, and Concluding Observations)

যেহেতু এই বিজ্ঞান অনুসরণকারী ব্যক্তিরা সৃজনশীল স্তরে চলে যায়, তাই কোনো সরকার বা শিল্প ব্যবস্থা তাদের থামাতে পারে না। আপনি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য দুর্যোগ বা বাধা নিয়ে চিন্তিত হবেন না; কারণ আপনি যখন নির্দিষ্ট উপায়ে চলবেন, তখন প্রতিটি অসুবিধা দূর হবে বা তার সমাধান পাওয়া যাবে। আপনার কথা সাবধানে বলুন; কখনও নিজেকে বা আপনার কাজকে হতাশাজনকভাবে বর্ণনা করবেন না, বা ব্যর্থতার সম্ভাবনা স্বীকার করবেন না। যদি কোনো আপাত ব্যর্থতা আসে, তবে জানবেন যে আপনি যথেষ্ট বড় কিছু চাননি; লেগে থাকুন, তাহলে আপনি যা চেয়েছিলেন তার চেয়েও বড় কিছু পাবেন। প্রয়োজনীয় প্রতিভা আপনা আপনি তৈরি হবে।

অধ্যায় XVII: ধনী হওয়ার বিজ্ঞানের সারসংক্ষেপ (Summary of the Science of Getting Rich)

এই অধ্যায়ে পূর্ববর্তী অধ্যায়গুলির মূল বিষয়গুলির সংক্ষিপ্তসার টানা হয়েছে। ধনী হওয়ার প্রক্রিয়ার সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:

  1. রূপহীন চিন্তাশীল পদার্থ (Thinking Stuff) থেকে সবকিছুর সৃষ্টি।
  2. মানুষ তার চিন্তার ছাপ রূপহীন পদার্থের উপর ফেলে সৃষ্টি ঘটাতে পারে।
  3. এই জন্য মানুষকে অবশ্যই প্রতিযোগিতামূলক মন থেকে সৃজনশীল মনে (creative mind) যেতে হবে।
  4. গভীর ও ক্রমাগত কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে রূপহীন বুদ্ধিমত্তার (Formless Intelligence) সাথে নিজেকে একীভূত করতে হবে।
  5. ব্যক্তিকে অবশ্যই তার কাঙ্ক্ষিত বস্তুর একটি সুস্পষ্ট মানসিক চিত্র তৈরি করতে হবে এবং এটিকে অবিচল বিশ্বাস ও কৃতজ্ঞতার সাথে ধরে রাখতে হবে।
  6. মানুষকে অবশ্যই সক্রিয় হতে হবে; তাকে তার বর্তমান স্থানকে পূর্ণ করার চেয়েও বেশি কিছু করতে হবে।
  7. প্রতিটি কাজ সফলভাবে করতে হবে এবং প্রতিটি লেনদেনে নগদ মূল্যের চেয়ে বেশি ব্যবহারিক মূল্য প্রদান করে বৃদ্ধির ধারণা সকলের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এই নির্দেশাবলী অনুসরণকারী ব্যক্তিরা অবশ্যই ধনী হবেন, এবং তাদের সম্পদ তাদের দৃষ্টিভঙ্গির সুনির্দিষ্টতা, উদ্দেশ্যের স্থিরতা, বিশ্বাসের অবিচলতা এবং কৃতজ্ঞতার গভীরতার সমানুপাতিক হবে।

উপসংহার

The Science of Getting Rich গ্রন্থে ওয়ালিস ডি. ওয়াটলেস যে পথ দেখিয়েছেন, তা হলো মন, বিশ্বাস এবং কর্মের সমন্বয়। ধনী হওয়ার জন্য কেবল কঠোর পরিশ্রম বা প্রতিভা নয়, বরং নির্দিষ্ট উপায়ে চিন্তা করা ও কাজ করা আবশ্যক। এই উপায়টি হলো রূপহীন, জীবন্ত, সীমাহীন পদার্থে (Formless Substance) সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্য (আরও জীবনের জন্য) নিয়ে নিজের কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যতের একটি স্পষ্ট মানসিক চিত্র তৈরি করা। এই দৃষ্টিভঙ্গি অবশ্যই স্থির উদ্দেশ্য এবং দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে ধরে রাখতে হবে, যা গভীর ও নিরন্তর কৃতজ্ঞতার মাধ্যমে চালিত হয়। চূড়ান্তভাবে, একজনকে অবশ্যই তার বর্তমান পরিবেশে, এই বিশ্বাস ও উদ্দেশ্যকে কাজে লাগিয়ে, প্রতিটি কাজকে দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করতে হবে, সর্বদা অন্যদেরকে নগদ মূল্যের চেয়ে বেশি ব্যবহারিক মূল্য প্রদান করে অগ্রগতির ধারণা (Impression of Increase) দিতে হবে। লেখক জোর দিয়ে বলেন, এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি যদি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়, তবে এটি ব্যর্থ হতে পারে না। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষ প্রতিযোগিতা থেকে সৃষ্টিশীলতার স্তরে উঠে আসে, যা কেবল তার নিজের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য আরও সমৃদ্ধ ও উন্নত জীবন নিশ্চিত করে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *